সময়োপযোগী ভাবনা, একটি ছোট্ট প্রয়াস
নিউজ ডেস্ক :: আজকের পরিবর্তিত সমাজ ব্যবস্থ্যায় মেয়েদের সম্মানে যা এক মাত্র সম্ভব তা হলো জেন্ডার ইকুয়ালিটির ভাবনাকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে। মেয়েরা যেকোনো সম্ভাবনাতেই কম নয়, তার উদ্যোগে সামিল হতেই ৮ মার্চ আর্ন্তজাতিক নারী দিবস পালনের ভাবনা। সেই ভাবনা থেকে আমরা, ইউনি চার্ম ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় সম্প্রতি সম্মানিত করা হলো এমন কিছু মানুষকে যারা এই ভয়ঙ্কর মহামারিকে গ্রাহ্য না করেও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোনো না কোনো ভাবে মানুষের পাশে দাঁডিয়েছেন। সেখানে যেমন আছেন সরকারি ও বেসরকারি সামাজিক প্রকল্পের সাথে যুক্ত মানুষ, তেমনি আছেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। অন্যদিকে স্বাধীন ভাবে ব্যবসা করে যে মহিলাটি তাকে শুধু নিজের সংসার চালানো নয় ভাবতে হয়েছে তার কর্মচারীদের কথাও তিনিও ছিলেন এদিনে অনুষ্ঠানের অতিথি। আর সর্বোপরি আমাদের মায়েরা । যারা প্রতিনিয়ত লড়ছেন সংসার করতে গিয়ে। আমাদের আপনাদের পাশে দাঁড়ানোই উদ্দামীকে ভবিষ্যতের পথে সাহস যোগাবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিৎ মহিলা সদস্যদের জন্য থাকছে বিনা মুল্য়ে বোনডেন্সিটি চেক-আপ ও ইউনি চার্ম ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে বিতরণ করা হয় সফি স্যানিটারি ন্যাপকিন।

উদ্দামী ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন, দক্ষিন কলকাতায় অবস্থিত একটি নন প্রফিট অরগানাইজেশন।২০০৫ সালে যা শুরু হয়েছিল উদ্দামী কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন সুবিধা থেকে বন্চিত আমাদের সমাজের যে যুবসম্প্রদায় তাদের জন্য ডিজিটাল লিটারেসি অর্থাৎ কিনা বেসিক কম্পিউটার শিক্ষার মাধ্যমে জীবিকা সংস্থান করা যাতে তারা আরও উন্নত মানের জীবন যাপন করতে পারে।উদ্দামী কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার ই হল এই প্রতিষ্ঠানের ফ্ল্যাগ শিপ প্রোগ্রাম।পরবর্তীকালে এই ছেলেমেয়ে দের চাকরি পেতে যাতে সুবিধা হয় সেইজন্য এর সাথে সাথে স্পোকেন ইংলিশ আর লাইফস্কিল ট্রেনিংও যুক্ত করা হয়েছে।এখান থেকে ৬ মাসের কোর্স শেষ করে ৮৬০ জন ছেলে মেয়ে সার্টিফিকেট পেয়েছে। তার মধ্যে ৫১৩ জন কে চাকরি পাইয়ে দিতে সমর্থ হওয়া গেছে।
যে কোনো প্রতিষ্ঠান শুরুতে ছোটো আকারেই থাকে তারপর আস্তে আস্তে তার মূল প্রজেক্টর সাথে সাথে আরও নতুন নতুন কাজ যুক্ত হয়।উদ্দামীও সেই ভাবেই বড হয়েছে। ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে যে ৬১% মেয়ে ছিল তাদের সঙ্গে নিয়ে শুরু হল মেন্স্ট্রুয়াল হাইজিনের কাজ। সত্যিতো আমাদের বাড়ির মেয়েরা কি আদৌ সচেতন মেন্স্ট্রুয়াল হাইজিন নিয়ে। ইউনি চার্ম ইন্ডিয়ার সাথে হাত ধরে শুরু হল এই যাত্রা। বিভিন্ন ছাত্র ছাত্রীদের পাড়ায় গিয়ে ছোটো ছোটো ওয়ার্কশপের মাধ্যমে তাদের সচেতন করা। কি ভাবে তারা মেম্স্টুরয়াল হাইজিনটা যথাযথভাবে রক্ষা করবেন বা মেন্ট্রুশনের সাথে যে রিপ্রোডাকটিভ হেল্থ সরাসরি যুক্ত সেই নিয়ে মেয়েদের সাথে বা তাদের মেয়েদের সাথে কথা বলা। পাশাপাশি এটা নিশ্চিত করা যে যে জায়গাগুলোতে উদ্দামী কাজ করছে সেখানে মেয়েদের জন্য যেন স্যানিটারি ন্যাপকিনের যথেস্ট পরিমানে সরবরাহ থাকে।
ওই যে ছোটোছোটো পা ফেলতে ফেলতেই তো চলা শুরু তার আরেকটি অংশ হল উদ্দামীও স্মাইল ফাউন্ডেশন টু ইন ইলার্নিং প্রোগ্রাম। এই নানা কিছু প্রকল্পের সাথে উদ্দামী স্বপ্ন দেখে আগামি দিনে বয়স্বন্ধিতে পৌঁছেছে এমন ছেলে মেয়ে অথবা সদ্যপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মেয়েদের জন্য একটা সুরক্ষিত স্পেস তৈরি করার।