পরিবর্তিত দুর্গাপুর প্রজেক্ট লিমিটেডের কিছু কর্মীর চাকরির উপর অশনি সংকেত
নিউজ ডেস্ক :: দুর্গাপুরের ডিপিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে টি দুর্গাপুর শিল্প শহর হিসেবে গড়ে উঠার প্রাথমিক শর্ত ” নো প্রফিট নো লস” এই ধারনাকে পাথেয় করে এক সময় জন্ম নেয়। কিন্তু কালের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধারণা আজ অতীত। সময়ের সাথে সাথে নানান সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে রুগ্ন হয়ে পড়ছিল এই বিদ্যুৎ সংস্থা। কোক ওভেন প্লান্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া। কয়লার অভাবে ইউনিটগুলোর মুখ থুবড়ে পড়া। বারবার বিদ্যুৎ ইউনিট গুলো খারাপ হওয়া সব নিয়ে লোকসানের ভারে জর্জরিত ছিল এই সংস্থা।

২০১৭ সালে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয় এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কে তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে যাতে সংস্থা বাঁচে এবং কর্মীরাও যাতে ভালো থাকে। এরপর ২০১৮ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর নোটিফিকেশন জারি হয় ।এবং ডিপিএল কে তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়। ডিপিএল, ডব্লিউবিএসইডিসিএল এবং ডব্লিউবিএসইটিসিএল। সেইমতো 428 জন কর্মীকে বিভিন্ন দপ্তর থেকে সরিয়ে এই নতুন দুই বিদ্যুৎ সংস্থার আওতাভুক্ত করা হয়। এবং ২০১৯ এর মার্চ মাস থেকে তারা সেই কাজে নিযুক্ত হয়। ঠিক একই রকমভাবে প্রায় দেড়শ জন ঠিকা শ্রমিক কেও এই দুটি নতুন দপ্তরের কাজে যোগদানের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
কর্মীদের অভিযোগ তাদের বলা হয়েছিল এখন তারা ডেপুটেশনে থাকবে এবং পরে তাদেরকে এই দুই নতুন সংস্থার কর্মী হিসেবে পাকাপাকিভাবে নিযুক্ত করা হবে। কিন্তু প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও এখনও তা হয়নি। তারা ঝুলে রয়েছে। তারা এই দুই নতুন সংস্থার কর্মী হয়েও এখনো পর্যন্ত সেই সংস্থার কর্মী হিসেবে সীলমোহর পাননি। এরইমধ্যে চলতি মাসের ১০ তারিখে পাওয়ার সেক্রেটারি সুরেশ কুমার ডিপিএলের অফিসারদের নিয়ে একটা বৈঠক করে একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেন । তাতে বলা হয় এই সমস্ত স্থায়ী কর্মী ও ঠিকা কর্মীরা কোনদিনই এই দুই নতুন সংস্থার কর্মী হিসাবে মান্যতা পাবেন না । এবং সংস্থার প্রয়োজন মত প্রয়োজন হলে তাদেরকে ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় বদলি করা হতে পারে। এই নিয়ে কর্মীদের মধ্যে শুরু হয় চাঞ্চল্য। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে তারা চাইছেন আবারও পুরনো সংস্থা ডিপিএলে ফিরে আসতে। নয়তো এই দুই নতুন সংস্থার স্থায়ী হিসাবে কর্মী হতে । এই দুই নতুন সংস্থার অন্যান্য কর্মীরা যে সুযোগ সুবিধা পান ডিপিএল থেকে বদলি হওয়া এই সমস্ত স্থায়ী ও ঠিকা কর্মীরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। তাই নিজেদের অনিশ্চিত চাকরি জীবনের কথা ভেবে সকলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফোরাম করে আন্দোলনে নামার। তারি রূপরেখা তৈরি করতে সম্প্রতি সকলে মিলে একজোট হয়ে জমায়েত হন ডিপিএলের বিদ্যুৎ দপ্তর এর সামনে এবং সেখানে একটি ফোরাম তৈরি ও নতুন আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা হয়। কোন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় না থেকে নিজেরাই গড়ে তুলবেন আন্দোলন নিজেদের বাঁচার জন্য এমনটাই জানিয়েছেন তারা ।