খাদিমের মোট বিক্রির লক্ষমাত্রা ৮০০ কোটি টাকা

বিপ্লব ভট্টাচার্য্য :::: চর্মজাত পণ্য ও জুতো প্রস্তুত কারক সংস্থা গুলির মধ্যে বর্তমানে খাদিমের নাম সর্বজন বিদিত। সংস্থার নিজস্ব ও ফ্র্যাঞ্চাজি মিলিয়ে এই মুহূর্তে মোট ৮০০ বিপনী কাজ করছে যার মধ্যে ৫৮০ টি হলো ফ্রাঞ্চাইজি ও ২২০ টি বিপনী খাদিম নিজেদের তত্ত্বাবধানে পরিষেবা দিয়ে থাকে।
বাংলার আসন্ন উৎসবের মরসুমকে সামনে রেখে খাদিম তাদের নতুন করে সম্পপূর্ণ বাজার কে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে চাইছে। এই উদ্দেশে সম্প্রতি কলকাতার এক অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে খাদিম ইন্ডিয়ার চিফ এক্সজিকিউটিভ অফিসার নম্রতা চোতরানী বলেন , “ভালো বিক্রি উন্নত ক্রেতা চাহিদা , প্রিমিয়াম বা দামি পণ্যের সম্ভার এবং খরচ নিয়ন্ত্রণ করে চলতি অর্থবর্ষের শেষে আমাদের মোট বিক্রি প্রায় ৮০০ কোটি টাকায় পৌঁছাবে, যা গত আর্থিক বছরের তুলনায় প্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি হবে বলে তার সংস্থা মনে করে।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখী হয়ে খাদিম কর্তী নম্রতা ছোটরানী জানান যে তাদের সংস্থার মোট বিক্রির প্রায় ৬০ শতাংশ ভারতের মাঝারি ও ছোট শহর গুলো থেকেই আসে। এবারের উৎসবের মরসুমের তাদের চলতি অর্থ বর্ষের মোট বিক্রির পরিমানের ৩০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছাবে বলে তারা মনে করেন। কেন্দ্র সরকারের বর্তমান জি এস টি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মতো বর্তমান বছরের ১ লা জানুয়ারি থেকে চর্ম জাত পণ্যের উপর বর্তমান জি এস টির হার ৫ থেকে বেড়ে ১২ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যেহেতুও খাদিমের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ পণ্যই ৫০০ টাকার নিচে তাই জি এস টি বৃদ্ধির এই হার তাদের পণ্যের উপর বেশি করে আঘাত করেছে। অন্যদিকে চর্মজাত পণ্য তৈরির অন্যনো উপাদনের লাগাতার মূল্য বৃদ্ধির দরুন খাদিম তার বিক্রয়জাত পণ্যের মূল্য ইতিমধ্যেই প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে খাদিম ইন্ডিয়া চিফ এক্সজিকিউটিভ নর্মতা চোতরানী জানান যে পুরুষদের থেকে মহিলাদের ও শিশুদের পণ্যের বিক্ৰী তাদের সংস্থার উৎপাদিত সামগ্রীর ক্ষেত্রে ইদিনিং বেশি দেখা যাচ্ছে। যদিও খাদিমের মোট বিক্রির প্রায় ৫৫ শতাংশের মতো আয় পুরুষ দেড় বিক্রীত সামগ্রী থেকেই আসে বলে খাদিম কর্তী জানান।

আগামী দিনে খাদিম দেশ জুড়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টি নতুন বিপনি খুলতে চলেছে । তার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশের মতো বিপনী শুধু পূর্ব ভারতেই খোলা হবে বলে এ দিনের সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়েছে। খাদিম সংস্থার তরফ থেকে জানা হয় যে সংস্থার এই মুহূর্তে মোট ব্যবসার ৭০ শতাংশ তাদের নিজস্ব বিপনী থেকে আসে এবং বাকি ৩০ শতাংশের মতো ব্যবসা মূলত মাল্টি ব্র্যান্ড বিপনী থেকে আসে।
এদিন খাদিম কর্তী জানান যে এই মুহূর্তে তাদের বাজারে মোট ঋণের পরিমান প্রায় ১৩০ কোটি টাকা যা তারা প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা মতো মেটানোর লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে চলছেন। এই ঋণ তারা তাদের প্রতি বছরের মুনাফার অংশ থেকে মেটানোর পরিকল্পনা নিয়ে চলার সাথে সাথে সংস্থার কিছু সম্পদ বিক্রির মাধ্যমেও যাতে বাকি ঋণের পরিমান কমানো যায় সেই চিন্তা ভাবনাও তারা করছেন বলে জানান। আগামী ২০২৩ -২৪ সালের মধ্যে সংস্থার চর্মজাত সামগ্রীর বিক্রির সংখ্যার নিরিখে প্রথম কোবিদ পূর্ববর্তী অধ্যায়ের সমান হবে বলে খাদিমের চিফ এক্সজিকিউটিভ নর্মদা চোতরানী মনে করেন।