মূর্তি সেতু পেরিয়ে পর্যটনের নতুন দিগন্ত

Share:

মূর্তি থেকে জলঢাকা বিন্দু, রঙ্গু ও কুমাই—সহজ হতে পারে পর্যটন যোগাযোগ

চালসা :: দীর্ঘ চার বছরের প্রতীক্ষার অবসান। প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মূর্তি নদীর উপর নতুন সেতু উদ্বোধনকে ঘিরে ডুয়ার্সে তৈরি হয়েছে উৎসাহ ও প্রত্যাশা। নতুন সেতু চালু হওয়ায় লাটাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, নাগরাকাটা, লুকসান ও মহাবাড়ি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পর্যটকরাও উপকৃত হতে পারেন। একই সঙ্গে মূর্তি ও সংলগ্ন এলাকার পর্যটন ব্যবসায় নতুন গতি আসার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে নতুন রূপ পেল ডুয়ার্সের অন্যতম পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র মূর্তির যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মূর্তি নদীর উপর নতুন সেতুর উদ্বোধনের পর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনই পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মহলেও তৈরি হয়েছে নতুন আশাবাদ।

মূর্তি ডুয়ার্সের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র। নদী, অরণ্য ও পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে পর্যটকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় এই অঞ্চল। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কমতে পারে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ

নতুন সেতু চালু হওয়ার ফলে লাটাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, নাগরাকাটা, লুকসান ও মহাবাড়ি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট রুটে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ কমে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর ফলে দৈনন্দিন যাতায়াতকারী মানুষ থেকে শুরু করে পর্যটক—দুই ক্ষেত্রেই সময় ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুবিধা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পর্যটন মরশুমে এই সেতুর গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

একাধিক পর্যটনকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগে সুবিধা

মূর্তি ছাড়াও জলঢাকা বিন্দু, রঙ্গু ও কুমাই-এর মতো পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হতে পারে। ফলে পর্যটকরা একই সফরে ডুয়ার্সের একাধিক পর্যটনস্থল ঘুরে দেখার সুযোগ পেতে পারেন।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের একাংশের আশা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় গাড়ি পরিষেবা, ছোট দোকান, খাবারের ব্যবসা, হোমস্টে ও রিসর্ট ব্যবসায়।

স্থানীয় অর্থনীতিতেও সম্ভাব্য প্রভাব

পর্যটনকে কেন্দ্র করে ডুয়ার্সের বহু মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে স্থানীয় পরিবহণ, খাদ্য পরিষেবা, হস্তশিল্প, ছোট ব্যবসা এবং আবাসন পরিষেবায় কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।

তবে পর্যটন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পর্যটন পরিকাঠামোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। মূর্তি ও সংলগ্ন বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রেখে পর্যটন বিকাশ ঘটানোই হবে আগামী দিনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

স্থান: মূর্তি, ডুয়ার্স
নির্মাণ ব্যয়: প্রায় ₹১৬ কোটি
অপেক্ষা: প্রায় ৪ বছর
সম্ভাব্য দূরত্ব হ্রাস: প্রায় ১০ কিলোমিটার
উপকৃত হতে পারে: লাটাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, নাগরাকাটা, লুকসান, মহাবাড়ি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা
পর্যটন সংযোগ: মূর্তি, জলঢাকা বিন্দু, রঙ্গু, কুমাই ও সংলগ্ন অঞ্চল
সম্ভাব্য প্রভাব: পর্যটন, পরিবহণ, হোমস্টে, রিসর্ট, খাবার ও স্থানীয় ছোট ব্যবসা

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু?

যোগাযোগ: দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার অবসানে নতুন সম্ভাবনা।

সময়: প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ কমলে যাতায়াতে সময় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা।

পর্যটন: একাধিক পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে।

স্থানীয় ব্যবসা: গাড়ি, খাবার, দোকান, হোমস্টে ও রিসর্ট ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা।

স্থানীয় অর্থনীতি:পর্যটন বাড়লে কর্মসংস্থান ও আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।